টক মিষ্টি ঝাল

                                প্রেমিকার মন

                                              মোঃ শিলন রেজা

 

বাসের ভিতর এতো ভিড় যে সোজা হয়ে দাড়াতে পারছি না আর এই ছোকড়া কতক্ষন ধরে ফোনে রাজ্যের প্রেমালাপ করেই যাচ্ছে । আমি দাড়িয়েছি লোকটার ঠিক সামনেই । সব থেকে বিরক্ত তাই আমার বেশি লাগছে ।

আসে পাশের লোকজনও দেখছে কেম চোখে কিন্তু এই পোলার কোন খবরই নাই ! একবার মনে হল কিছু বলি লোকটাকে । আমি যদি সাহস করে কিছু বলি তাহলে নিশ্চই আশে পাশের লোকজনও আমার সাহায্যের জন্য কিছু না কিছু বলবেই !

মানুষের স্বভাব ! কারো ভাল কোন কাজে বাহবা না দিলেও কাউকে কটাক্ষতে ঠিকই সুর মেলায় !

কিন্তু তারপর মনে হল থাক । বলে আর কি হবে ? লোকটা আমার থেকে দুই তিন বছরের বড় হবে আর দেখতেও বেশ স্মার্ট । আমি এক কথা বলব আর প্রতি উত্তরে আমাকে আবার কি না কি বলবে কে জানে । আর আমি যে লোক জনের ভরসায় কিছু বলতে যাচ্ছি যদি তারা কিছু না বলে ?

তখন?

আমি চুপ করেই রইলাম !

লোকটার নাম সম্ভত ইমরান । একটু আগেই লোকটা ফোনে এই নামটাই তো মনে হয় বলল । যাই হোক আমার এখনও গন্তব্যের অনেক বাকি । আর এই ইমরান সাহেবও মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি নামবে না । আমি বিরক্তি ভাব কাটানোর চেষ্টা করলাম । আমি তার কথা মনযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম ! দেখি বেটা এতো কি কথা বলছে ?

ইমরান সাহেব হেড ফোনে কথা বলছিল । আসলে যত লম্বা সময় কথা বলছিলেন ততক্ষন হাত দিয়ে ফোন ধরে রাখা একটু কষ্টকরই বটে । যাই হোক ফোন এতোক্ষন পকেটের ভিতরেই ঢুকানো ছিল এখন বের করে হাতে নিল । স্বাভাবিক ভাবেই চোখটা আমার উনার হাতের দিকে চলেই গেল । স্যামসাং এর স্মার্ট ফোন ।

স্মার্ট ইমরানের স্মার্ট ফোন ।

একটু যেন ঈর্ষাই হল । আমার অবস্থান থেকে ইমরান সাহেব সব দিক থেকেই এগিয়ে । আমি চুপচাপ তাকিয়ে রইলাম ইমরান সাহেবের দিকে । তবে এমন একটা ভাব যেন ইচ্ছা করে নয় স্বাভাবিক ভাবে তাকিয়ে আছি । ইমরান সাহেব একটা নাম্বার ডায়েল করল । স্মার্ট ফোনের স্ক্রীন বড় হওয়ায় নামটা আমি স্পষ্টই দেখতে পেলাম অরিন । নিচে নাম্বার টাও দেখা যাচ্ছে । সাথে সাথে অরিনের ছবিটাও ভেসে উঠল মোবাইল পর্দায় ।

আমার বুকটার ভিতর আবার একটা হাহাকার ভেশে উঠল ।

নাহ !

এই ইমরান সাহেব কে আল্লাহ সব কিছুই দিয়েছে দেখছি । আমাদের কি কিছুই দিবে না ?

ফোন রিভিস হয়েছে । আমি কথা শুনতে লাগলাম । ইমরান সাহেব বলল

-হ্যা । বাবু কতদুর ?

বাবু ?

এতো ঢং কই থেকে আসে ? এই ব্যাপারটা আমি আগেও দেখেছি । রাস্তা ঘাটে এই ছেলেগুলা এমন আহ্লাদ করে । আমি অরিনের কথা শুনতে পাচ্ছি না । কেবল ইমরান সাহেবের কথাই শুনে অনুমান করতে হবে যে অরিন কি বলছে !

ইমরান সাহেব আবার বলল

-আচ্ছা ! ঠিক আছে ! আমি কাছাকাছিই আছি !

তারপরই সে ঘড়ি দেখলো ! তারপর বলল

-তুমি ঠিক দুইটার দিকে বসুন্ধরার থাকবে !

-(নিরবতা)

-আরে আট তলায় থাকবা ! ক্যাপ্রিকনের ভিতরে ! আমার একটা ছোট্ট কাজ আছে ! কাজ সেরেই আমি চলে আসবো !

-(নিরবতা)

-আচ্ছা রাখি !

ইমরান সাহেব ফোন রেখে দিল ! আমি মনে করলাম মনে হয় একটু খানি সময়ের জন্য শান্তি পাওয়া যাবে ! কিন্তু ফোন রাখা বাকী, সঙ্গে সঙ্গেই আবার ফোন চলে এল !

আমার চোখ আবারও চলে গেল ইমরান সাহেবের স্মার্ট ফোনের দিকে !

এবার ফোন দাতা ….না ঠিক দাতা না, মহিলা দাতা !

নাম নুপুর !

এবার আমি মোবাইল স্ক্রীনে নুপুরের ছবি দেখতে পেলাম ! বেশ মায়া কড়া চেহারা ! সাথে সাথে নাম্বারটাও দেখা যাচ্ছে ০১৭১২৩০৩০**

এতো সহজ নাম্বার ?

দেখতেই মনের ভিতর কেমন যেন আটকে গেল !

কিন্তু বেকুব ইমরান সাহেবের সেদিকে খিয়াল নাই !

তিনি কথা বলায় ব্যস্ত !

-আরে কি বল ? না না ! কোন ভাবেই সম্ভব না ।

-(নিরবতা)

-আরে একটু বোঝার চেষ্টা কর !

-(নিরবতা)

-ঠিক আছে আমি বুঝলাম ! কিন্তু আমার পক্ষে এখন তোমার সাথে দেখা করা সম্ভব না ! প্লিজ বুঝতে চেষ্টা কর সোনা !

সোনা ??

হালায় তো আসলেই বদ !

একজন রে টাইম দিছে তাই এইটারে টাইম দিতে পারছে না !

এরও কয় কপাল ! আমরা একটা পাই না আর এইটা দুইটা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ! এই দুনিয়াই আসলেই গরীব সারা জীবন মার খেয়ে গেল !

আমি আসলেই মনে মনে ইমরান বেটার উপর ঈর্ষা বোধ করলাম ! এই ব্যাটাকে একটা শিক্ষা যদি দিতে পারতাম !!

কিন্তু আমার কি করার আছে ?

ঠিক তখনই আমার মাথায় একটা শয়তানী বুদ্ধি খেলে গেল ! নুপুরের মোবাইল নাম্বারটা তো আমার মাথায় আটকে আছে ! একটা কাজ করলে কেমন হয় ?

আমি মনে মনে বললাম অবশ্যই হয় !

একটা কুটিল হাসি আমার মুখ দিয়ে বেড়িয়ে এল । বাসের জানালার কাচে আমি সেই হাসিটা পরিস্কার দেখতে পেলাম !

আমি ঘড়িতে সময় দেখলাম ! একটার কাছা কাছি বাজে ! অরিনের সাথে এই ফাজিল ইমরানের দেখা করার কথা ! আমার হাতে আরো একঘন্টা সময় আছে ! দেখা যাক কি করা যায় !

 

পান্থপথের মোড়ে ইমরান নেমে গেল ! আমিও নেমে গেলাম তার পেছন পেছন ! ও বসুন্ধরার দিকে না গিয়ে কাওরান বাজারের দিকে গেল ! আমি ওর পিছনে গেলাম না ! যেখানেই যাক না কেন দুইটার সময় তো ও ঠিকই বসুন্ধরায় আসতেছে ! আমি বরং এই ফাকে আমার কাজ করে ফেলি ! আমি মোবাইল বের করেই প্রথমে নুপুর কে ফোন দিলাম ! দুবার রিং হতেই মেয়েটা ফোন রিসিভ করলো ! মেয়েটা হ্যালো বলার আগেই আমি বললাম

-নুপুর বলছেন ?

খানিক্ষন নিরবতা ! তার পর আওয়াজ এল

-জি বলছি ! কে বলছেন ?

-আমাকে আপনি চিনবেন না !

-তাহলে ফোন দিয়েছেন কেন ?

-আপনার উপকার করতে !

-শুনুন আপনার উপকার আমার দরকার নাই !

-সেটা আপনার ইচ্ছা ! যদি না নিতে চান তাহলে আমি কিছু বলবো না ! তবে ব্যাপারটা ইমরানকে নিয়ে !

আমার মনে হল আসল জায়গায় হাত দেওয়া গেছে ! মেয়েটি কিছুক্ষন চুপ করে রইলো ! তারপর আমাকে বলল

-আপনি ইমরানকে কিভাবে চিনেন ?

-সেটা বড় প্রশ্ন না ! এখন আমি কি বলবো আমার কথা নাকি আপনি ফোন রেখে দিবেন ?

আমি জানি নুপুর ফোন রাখবে না ! মেয়েরা সব সময় তাদের বয়ফ্রেন্ডের ব্যাপারে কৌতুহলী হয় ! যে কারো কাছ থেকে বয়ফ্রেন্ডের ব্যাপারে সব কিছু শুনতে প্রস্তুত !

আমি আবার বললাম

-কি কিছু বলছেন না যে ?

-আপনি বলুন !

-আজকে আপনি ইমরানের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন তাই না ?

খানিকক্ষন নিরবতা !

-জি !

-কিন্তু সে রাজি হয় নাই তাই না ?

-হুম !

-সে কোথায় গেছে জানেন ?

-কি একটা কাজ আছে যেন !

-সে আর একটা মেয়ের সাথে ডেটিং করবে এই জন্য !

আবারও নিরবতা !

আমি আবার বললাম

-দেখুন আমার কথা আপনার বিশ্বাস হওয়ার কোন কারন নাই ! কিন্তু যদি বিশ্বাস না করেন তাহলে আমি ফোন রেখে দেই !

আবারও কিছু সময় নিরবতা !

মেয়েটি তারপর বলল

-আপনি প্রমান করতে পারবেন ?

-না পালে বলছি কেন ?

তারপর বাসে ইমরানের সাথে দেখা হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সব কিছু বললাম নুপুর কে !

নুপুর সব শুনে বলল

-তারমানে ইমরান এখন বসুন্ধরায় ঐ অরিনের সাথে আছে !

আমি বললাম

-এখনও আসে নাই তবে দুইটার সময় আসবে ! আপনি চাইলে আসতে পারেন ! আমি এখানেই আছি !

আবারও নিরবতা !!

-আচ্ছা আমি আসতেছি !

-শুনুন ! এর ভিতরে কিন্তু ইমরানকে ফোন দিবেন না ! তাহলে কিন্তু হবে না !

-আচ্ছা দিবো না !

 

আমি নুপুরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম !

দেড়টার দিকে নুপুর এসে হাজির ! আমিই নিচতলায় ছিলাম ! ওর দিকে চোখ পড়তেই ওকে ফোন দিলাম !

আমাকে দেখে খানিকটা বিষন্ন চোখে আমার দিকে তাকালো ! তারপর বলল

-আপনি সত্যি বলছেন তো ?

-আমার কি মিথ্যা বলার কোন কারন আছে ? আমি আপনাকেও চিনি না আপনার ইমরানকেও চিনি না !

-তাহলে কেন করছেন এই সব ?

মেয়েটির এই প্রশ্নে আমি খানিকটা চুপ করে গেলাম । নিজের মনের কাছে প্রশ্ন করতে লাগলাম আসলেই তো আমি কেন করছি এই কাজটা ! এটা কি এই অপরিচিত মেয়েটাকে একটা প্রতারকের হাত থেকে বাচানোর জন্য নাকি ইমরানের প্রতি ঈর্ষা থেকে ?

আমি জানি না !

একবার মনে হল থাক এসব করে লাভ নাই ! মেয়েটাকে বলি আমি কেবল ফান করছি ! আমি ইমরানের বন্ধু ইত্যাদি ইত্যাদি !!

কিন্তু এই বেকুব মেয়েটাই বা আমার কথা বিশ্বাস করে চলা এল কেন ?

কে জানে কেন ?

নুপুর মনে হয় আমার মনের কথা বুঝতে পেরেছে ! আমার দিকে তাকিয়ে বলল

-আমি আপনার কথা বিশ্বাস করতাম না ! কিন্তু বেশ কয়েক দিন ধরেই ইমরানের আচরন আমার কাছে কেমন যেন সন্দেহজনক মনে হচ্ছে ! একদম যেন পাল্টে গেছে ! আর অরিনের কথাটা আমি নিজেও শুনেছি ওর কয়েকজন বন্ধুর মুখ থেকে !

আমি চুপ করে রইলাম !

নুপুর বলল

-আজকে যদি হাতে নাতে ধরতে পারি তাহলে ইমরানের খবর আছে ! একসাথে দুইটা প্রেম করা ছুটাইয়া দেব !

এই না হলে বাঙালী নারী ! ছেলেরা ধোকা দেবে আর সে বসে কাঁদবে তা হবে না !

আমি একটু হাসলাম ! নুপুরও কি মনে করে হাসলো !

আমি বললাম

-চলুন আমরা ক্যপ্রিকনে গিয়ে বসি ! ওদের আগেই আমরা হাজির হই ! -আচ্ছা চলুন !

 

আমরা ক্যপ্রিকনে ঢুকলাম ! বসলাম একেবারে প্লেজোনের একটু পাশে ! এখান থেকে সব জায়গা ভাল করে দেখা যায় ! আর নিজেদের আড়াল করার একটা ব্যাপার আছে !

আমার কি হল নুপুর কে বসিয়ে ওর জন্য আইসক্রিম নিয়ে এলাম !

আইসক্রিম দেখে নুপুর বলল

-এখানে আমি আপনার সাথে ডিটিং করতে আসি নি !

-না সেটা না ! আসলে এখানে আসলেই আমার কেবল আইসক্রিম খেতে ইচ্ছা করে ! এখন আমি খাবো আপনার জন্য না এনে কি পারি ? ভদ্রতা বলে তো একটা কথা আছে নাকি ? আপনি যদি না খেতে চান তাহলে কোন সমস্যা নাই !

নুপুর কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আইসক্রিমে কামড় দিল !

বলল

-হুম ! ভালতো !

-দেখছেন !

আম যখন আর একটা কামড় দিলা ঠিক তখন মেয়েটার দিকে চোখ গেল আমার । নীল জিন্স সাথে কালো টিশার্ট পরেছে !

কোথায় দেখেছি মেয়েটাকে ?

কোথায় ?

আরে…..

আমি মেয়েটাকে চিনে ফেললাম । ইমরান সাহেবের মোবাইল স্ক্রীনে তো এই মেয়েটার ছবিই দেখেছিলাম । এই তো অরিন !

আমি নুপুরকে বললাম কথাটা ! দেখলাম নুপুর আইসক্রিম খাওয়া বন্ধ করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে !

আমিও মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষন ! আসলেই ইমরান মিয়া একটা কঠিন মা…..।

ছিঃ ছিঃ এই সব কি ভবতেছি !

না না মোটেই এই সব কথা ভাবা ঠিক হচ্ছে না !

 

নুপুরের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর মুখটা কেমন শক্ত হয়ে গেছে ! নুপুর বলল

-এই পেত্নীই আমার ইমরানের মাথা খেয়েছে ! একে যদি ….

-পেত্নী ?

এতো সুন্দর একটা মেয়েকে পেত্নী বলা কি ঠিক হল ! আমি বললাম

-ইমরান সাহেব …..

আমার মুখের কথা শেষ করতে দিল না ! নুপুর বলল

-আমার ইমরান মোটেই এমন নয় ! এই মেয়েরই সব দোষ !

এই না হলে বাংলাদেশী মেয়ে !! একটু আগে নিচে কি বলল আর এখন কি বলছে !

যত যাই হোক তার কাছে তার স্বামীই মানে বয়ফ্রেন্ডই সব ! সবার আগে সে তার বয়ফ্রেন্ডের পক্ষই নেবে !

কিন্তু মমিন এক হাতে তো আর তালি বাজে না !!

 

আমরা বসে আছি ! ঠিক দুইটার সময় ইমরান সাহেব এসে হাজির !

নুপুর বলল

-একেবারে ঠিক সময়ে এসেছে ! আমাকে সময় দিলে কখনও ঠিক সময়ে আসে না !

আজকে এর মজা দেখাবো !

নুপুর দেখলাম হাতের আইসক্রিমের বাটিটা নিয়েই হাটা দিল !

আমি বললাম

-আরে শুনুন ! আর একটু পরে……

কিন্তু কে শুনে কার কথা ! নুপুর গিয়ে হাজির হল ইমরানের সামনে !

আমি ভাবলাম কাছে যাই ! কিন্তু নিরাপদ দুরুত্বে থাকাই ভাল । ইমরান সাহেব যদি আমাকে দেখে ফেলে আর যদি চিনে ফেলে তাহলে আমার একটু খবর থাকলেও থাকতেও পারে !

আমি দুর থেকেই দেখতে লাগলাম নুপুরের কর্মকান্ড !

 

নুপুর যেই না ইমরানের সামনে হাজির হল ঠিক তখনই ইমরান চমকে উঠলো ! কিন্তু যেন বলতে চাইলো কিন্তু ঠিক ওর মুখ দিয়ে কথা বের হল না । কেবল সেখানে একরাশ বিশ্ময় !

মনে হয় ভাবছে এই মেয়ে এইখানে আসলো কেমন করে ?

কেমন করে ?

কিন্তু আমি জানি এই প্রশ্নের উত্তর সে পাবে না !

কেন জানি আবারও মনে র ভিতর একটা শয়তানী অনুভুতি হল ! মানুষকে বিপদে ফেলা মোটেই ঠিক না কিন্তু আমার কেন জানি একটা পৌশাচিক আনন্দ হচ্ছে !

বাসের ভিতর যেমন আমি ইমরান কে দেখে ঈর্ষান্বিত হয়েছিলাম এখন আমার আনন্দ লাগছে !

বেটা মর এখন !

 

আমি ওদের কথা শুনতে পারছি না কিন্তু নুপুরে এক্সপ্রেশন বুঝতে পারছি ! আমি কেবল ওর হাতের আইসক্রিমের বাটির দিকে তাকিয়ে রইলাম ! একবার মনে হল ওটা আবার ইমরানের দিকে ছুড়ে মারবে না তো ?

আমার মুখের কথা মুখেই রয়ে গেল নুপুর সত্যি সত্যি ইমরানের মুখের উপর আইসক্রিমের বাটিটা ছুড়ে মারলো !

হায় হায় !

পুরো ক্যাপ্রিকনের ভিতরে একটা গুঞ্জন উঠলো ! সব গুলো চোখ এখন ওদের উপর নিবদ্ধ ! নুপুর আর দাড়াল না ! হাটা দিল !

 

আমিও এই পাশ থেকে ওর পিছন পিছন হাটা দিলাম।

একটু জোরেই হাটছিল !

আমি ওর পিছু পেতে একটু সময়ই লাগলো !

 

আমি নুপুরের কাছ গিয়ে বললাম

-বাহ আপনার তো অনেক সাহস !

-দেখুন আমার মাথা এখন অনেক গরম !

আমি হাতের আইসক্রিমটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম

-এই নিন আইসক্রিম টা শেষ করুন ! মাথা ঠান্ডা হবে ! চাইলে আমার মাথায়ও মারতে পারেন ! মুখের উপর মারতে পারেন ! কিন্তু চুলের উপর ফেলবেন না কেকমন !

আমার দিকে কঠিন ভাবে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে নুপুর হঠাৎ করেই হেসে ফেলল !

বলল

-আপনার খুব মজা লাগছে না ?

-হুম ! আমি আসলে এই রকম পরিস্থিতিতে কোনদিন পড়ি নি ! আর আপনার মত এমন মেয়েও দেখি নি ! আপনি সত্যি সত্যি এটা করেছেন বিশ্বাসই হচ্ছে না !

নুপুর বলল

-আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না ! কিন্তু আামর নিজের কাছেও খুব ভাল লাগছে ! আসুন আপনাকে আর একটা আইসক্রিম খাওয়াই !!

 

আমরা আর ক্যাপ্রিকনে ঢুকলাম না ! কোনার দিকের একটা দোকানে গেলাম ! নুপুর কে দেখলাম এখন বেশ স্বাভাবিক ! আমার সাথে টুকটাক কথা বলতেছে !

আমার মনটা ভাল হয়ে গেল ! একটা আকাম যদিও আমি করেছি কিন্তু এই আকামের ফল এই রমক হবে আমি ভাবতে পারি নি !

মেয়েটা এখন নিঃসঙ্গ বোধ করবে !

আমি জানি ! বাসায় গিয়েই নুপুরের মন খারাপ হবে । এখন যদি মেয়েটাকে সাপোর্ট দিতে পারি তাহলে হু নোজ ইমরান সাহেবের এক্স গার্লফ্রেন্ড আমার বর্তমান গার্লফ্রেন্ড হয়ে যেতে পারে !

 

এর পরে ??

থাক ! এর পরে কি হল সেটা আর আপনাদের জেনে লাভ নাই ! নুপুর সাথে আমার কিছু হল কিনা অথবা ইমরান সাহেবের কি হল ? এসব কথা নাই বা জানলেন !

টাটা !!